রবিবার
২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং
৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
২৩শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

রিজার্ভ চুরিতে সুইফট দায়ী: ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দীন

প্রতিবেদক:  Shomoy News 24    প্রকাশের সময়: 16/05/2016  2:00 AM

14258_f6

অর্থনীতি ডেস্ক, সময় নিউজ ২৪ ডটনেট: সরকার গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রধান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সরাসরি আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী আন্তর্জাতিক মাধ্যম সুইফটই দায়ী। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এর দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন সাবেক এই গভর্নর। সরকারের তরফ থেকে তার ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয় গত ২০শে মার্চ। তখন বলা হয়েছিল, ৩০ দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন ও ৭৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এর মধ্যে গত ২০শে এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেন তিনি। রোববার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলার মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসার সময় অঘোষিত এক ব্রিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের ফরাসউদ্দিন বলেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সুইফট সরাসরি দায়ী। কারণ, সুইফট আরটিজিএসের সঙ্গে সংযোগ দেয়ার ফলে এটি ঘটেছে। সুইফট নিজেই তাদের সার্ভার ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার ব্যবস্থা করেছিল। এতে এই অর্থ চুরি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির দায় ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও গাফিলতি ছিল।
ফরাস উদ্দিন বলেন, ২০১৫ সালের ৮ই মার্চ সুইফট বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি পত্র দেয়। সেই পত্রে আরটিজিএসের (তাৎক্ষণিক লেনদেনের প্রক্রিয়া) সঙ্গে সুইফটের সংযোগ দিতে বলা হয়। আর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অসতর্কতা, অজ্ঞতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে তা অনুমোদন করে, যা কাল হয়ে দাঁড়ায়। সংযোগ দেয়ার পর ২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার চালু রাখতে বলে তারা। অথচ এর জন্য যে প্রযুক্তি সহযোগিতা প্রয়োজন তা করা হয়নি। সেই সংযোগের পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে প্রবেশ করার একটি বিশেষ ম্যালওয়ার তৈরি করা হয়েছে। যা থেকে পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার ডাকাতি করা হয়। এর দায় বর্তায় সুইফেটের ওপর। কারণ, সুইফট বিশ্বব্যাপী একটি সুরক্ষিত আর্থিক নিরাপত্তাদানকারী প্রতিষ্ঠান।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ফেডেরও কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। কারণ, ৩৫টি অর্ডারের মধ্যে ৫টি অর্ডার কার্যকর করা হয়। এ পেমেন্ট দেবে কিনা তা জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকে বার্তা প্রেরণ করে ফেড। অথচ ফিরতি ম্যাসেজ না পেয়েই পেমেন্ট কার্যকর করা হয়। তাই তাদেরও দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ নেই।
ফরাস উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ জড়িত নয় বলে তদন্ত কমিটি মনে করে। তবে এক্ষেত্রে তাদের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারের সমন্বিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অন্তত ৫ কোটি ডলার ফেরত আনা সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর।
এদিকে এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়ের করা মামলার তদন্তে থাকা বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও বলেছে, সুইফটের টেকনিশিয়ানদের অবহেলার কারণেই বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুইফট সার্ভার হ্যাকারদের সামনে অনেক বেশি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কয়েকদিন আগে সুইফটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কোনো সদস্যের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব নয়।
এর আগে ব্লুুমবার্গ নিউজ জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকে হামলায় জড়িত তিনটি হ্যাকার গ্রুপের একটি পাকিস্তান এবং একটি উত্তর কোরিয়ার।
এক সপ্তাহ আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রিজার্ভ চুরির ক্ষেত্রে সুইফটের ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার ‘অ্যালায়েন্স একসেস’ থেকে ভুয়া মেসেজ পাঠানোর পর তার ট্র্যাক মুছে ফেলতে যে ম্যালওয়্যার চোরেরা ব্যবহার করেছিল, তা খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন বিএই সিসটেমস নামের একটি বৃটিশ সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান। রয়টার্স ও ব্লুুমবার্গের প্রতিবেদনে যেসব তথ্য দেয়া হয়েছে, তা মিলে গেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত কমিটির প্রধান ফরাসউদ্দিনের বক্তব্যের সঙ্গেও।
এক প্রশ্নের জবাবে ফরাসউদ্দিন বলেন, এই ম্যালওয়ার তৈরি করা হয়েছিল পাকিস্তান বা উত্তর কোরিয়ায়। আমরা আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্টে টাকা আদায়ের জন্য ফিলিপিন্সের আরসিবিসি ব্যাংকের ওপর চাপ প্রয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছি। পুরো টাকা আদায় করতে হলে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে করতে হবে। ফিলিপিন্সের ক্ষমতার পালাবদলের আগে ৩০শে জুনের মধ্যে উদ্ধারযোগ্য সব টাকা ফেরত দেয়া যাবে বলে সিনেট কমিটির আশা।

সূত্র: মানবজমিন।

Site Develop by : Shekh Mostafizur Rahman Faysal