বৃহস্পতিবার
১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং
২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
১৮ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন, থানায় লিখিত অভিযোগ

প্রতিবেদক:  Shomoy News 24    প্রকাশের সময়: 11/07/2019  8:49 PM

মোস্তফা কামাল, সময় নিউজ ২৪ ডটনেট, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা): শ্যামনগরের দাতিনাখালী নদী ভাঙ্গন এলাকায় সংশ্লিষ্ট এসওকে ম্যানেজ করে কতিপয় ব্যক্তি অবৈধভাবে বেড়ীবাঁধ কেটে নায়ন্টি পাইপ বসানোর ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় দোষীদের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছে এসও শাহনাজ পারভীন। এদিকে গত ৯ জুলাই জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার সত্যতা পেয়েছেন। অথচ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবৈধ নায়ন্টি পাইপ দ্বারা লোনা পানি উঠা নামা অব্যহত ছিল। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য জেলা প্রশাসক সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহা-পরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শ্যামনগরের সুধী মহল। এলাকাবাসী জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তারা উৎকোচের মাধ্যমে কাঁকড়া হ্যাচারী মালিকদের এহেন অবৈধ কর্মকান্ডের সহযোগীতা করছে, নদী ভাঙ্গন কুল হতে এসব নায়ন্টি পাইপ অপসারন করা সম্ভাব হচ্ছে না। শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও শাহনাজ পারভীন দাতিনাখালী নদী ভাঙ্গন এলাকা হতে নায়ন্টি পাইপ অপসারন করার জন্য ১০ দিনের সময় বেধে দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নোটিশ প্রদান করেন এবং নোটিশ অমান্য কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করারও কথা বলেন। এ নির্দেশ মোতাবেক অবৈধভাবে বসানো নায়ন্টি পাইপ তাদের স্ব স্ব দায়িত্বে উঠিয়ে নেয়। অথচ ৪-৫ দিন যেতে না যেতে তারা পুনরায় বেড়ীবাঁধ কেটে জিও বস্তা সরিয়ে আবারও নায়ন্টি পাইপ বসান। এতে কি প্রতিয়মান হয়না, যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতামতের বাহিরে তারা নায়ন্টি পাইপ বসায়নি ? এ ঘটনায় জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে এসও শাহনাজ পারভীন অবৈধভাবে নায়ন্টি পাইপ বসানো ব্যক্তিদের নামে শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ আনিছুর রহমান মোল্লা অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্তপূর্বক দোসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উল্লেখ্য, শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়ন বাদে উপকুলবর্তী ইউনিয়নে ৬ টি অতিব ও ঝুকিপূর্ণ বেড়ীবাঁধের মধ্যে দাতিনাখালী ৫ নং পোল্ডার এটি অন্যতম। এ ভাঙ্গনকুলে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বেড়ীবাঁধ মেরামতে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হলেও সবই নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রকৃতপক্ষে টেকসই বেড়ীবাঁধ সংস্কারের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। ঘুর্ণিঝড় ফণির আঘাতের পরে বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান ও পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম শ্যামনগরের জরাজীর্ণ বেড়ীবাঁধ পরিদর্শন করেন এবং বেড়ীবাঁধ সংস্কারে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। যার প্রেক্ষিতে দাতিনাখালী নদী ভাঙ্গনকুলে ১৬ হাজার জিও বস্তা ফেলার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যা চলমান রয়েছে। এমন অবস্থায় অবৈধভাবে নায়ন্টি পাইপ বসিয়ে পানি উঠা নামা করলে নদী ভাঙ্গন আরো ভয়াবহ রুপ ধারণ করবে এবং সরকারের দেওয়া লক্ষ লক্ষ টাকার প্রকল্প নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

Site Develop by : Shekh Mostafizur Rahman Faysal