সোমবার
১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
২রা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
১৯শে রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

চট্টগ্রামে মাদরাসায় বিস্ফোরণ

প্রতিবেদক:  Shomoy News 24    প্রকাশের সময়: 08/10/2013  12:15 AM

5252811ca8578-Chitta22

ন্যাশনাল ডেস্ক, সময় নিউজ ২৪ ডটনেট: চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসামের নেতা মুফতি ইজহারুল ইসলাম পরিচালিত জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদরাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।  সোমবার সকালে ওই মাদরাসার একটি কক্ষে বিস্ফোরণে ওই কক্ষটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ৫ ছাত্র আহত হয়। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনার পরপরই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বিকালে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয় বিস্ফোরণস্থল থেকে তাজা গ্রেনেড ও বিস্ফোরকের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে আলামত উদ্ধারের ঘটনা নাটক। ইউপিএস বিস্ফোরণে কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুলিশ দাবি করেছে, সেখানে একটি কক্ষে বসে মাদরাসার কয়েক ছাত্র ককটেল ও বোমা তৈরি করছিল। এক পর্যায়ে সেগুলোর বিস্ফোরণ হয়। ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান করে বিকালে পুলিশ জানায়, আলামত হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে ৫টি তাজা গ্রেনেড ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ আহতদের কড়া নজরদারিতে রেখেছে। মুফতি ইজাহার হেফাজতে ইসলামের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। পাশাপাশি বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির  কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন আবদুল করিম, হাবিবুর রহমান, জব্বার, আবদুল মান্নান, আমান উল্লাহ। তাদের সবাইকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় জানান, গ্রেনেড উদ্ধারের ঘটনাটি সত্যি। প্রথমে আমাদের বিশেষজ্ঞ দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। পরে মাদরাসার ভেতর থেকে বেশ কয়েকটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
সরজমিন লালখান বাজার এলাকায় জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায় উৎসুক জনতার ভিড়। সাধারণ লোকজনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে চারতলা ছাত্রাবাস ভবনের দোতলার একটি কক্ষে। বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষের সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের সিলিং ফ্যান বাঁকা হয়ে গেছে। কক্ষের দেয়ালের একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
মাদরাসা ছাত্ররা জানায়, কক্ষের ভেতর কম্পিউটারের ইউপিএস ও ল্যাপটপ রাখা ছিল। গতকাল সকাল ১১টায় ১০-১২ জন ছাত্র সেখানে বসে কথা বলছিল। এই সময় একজন ছাত্র কম্পিউটার অন করার পর হঠাৎ করেই ইউপিএস বিস্ফোরণ হয়। এতে মুহূর্তেই বিকট শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ছিটকে পড়ে। আওয়াজ শুনে মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ও ছাত্ররা দ্রুত ছুটে যান। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ছাত্রকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে একজনের শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গেছে। অন্যজনের বেশ কয়েকটি আঙুল উড়ে গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানান, বিস্ফোরণের পরপরই রুমটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর তা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে লোকজন পানি ও বালি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুফতি ইজাহারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তার পক্ষে ছেলে মুফতি হারুন বলেন, ‘এখন তিল থেকে তাল করা হবে। ঘটনা যতটুকু হয়েছে তার চেয়ে বেশি বলা হচ্ছে। আসলে কম্পিউটারের ইউপিএস থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছে। তারা এখন চট্টগ্রাম মেডিকেলে।’
ঘটনার পরপরই লালখান বাজার এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল বের করে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতারা। এই সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী মাদরাসা উচ্ছেদের স্লোগান দেয়। তারা জঙ্গি তৎপরতা বন্ধের দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করে। খবর পেয়ে খুলশী থানা পুলিশ মাদরাসায় গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তাদের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থল থেকে কাঁচ ও মার্বেল পাওয়া গেছে। পাঁচটি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের বোমা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামত থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।
খুলশী থানার এসআই গোলাম নেওয়াজ বলেন, আহতদের আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাঁচলাইশ অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবদুর রউফ বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে রহস্য রয়েছে। আমরা এখনি কিছু বলছি না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কোথা থেকে কিভাবে বিস্ফোরণ হলো তা নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। কম্পিউটারের ইউপিএস বিস্ফোরণ হয় কিনা হলে কিভাবে হয় তা দেখা হচ্ছে। ঘটনা ঘটার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দ্রুত ছুটে যান মাদরাসার ভেতরে। তবে তারা যাওয়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মোনায়েম বিল্লাহ বলেন, আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। তবে বিস্ফোরণ হয়েছে ভয়াবহ। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ইজহারের বাসায় তল্লাশি: এদিকে মুফতি ইজহারুল ইসলামের লালখান বাজারের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ১৮ বোতল এসিড জব্দ করে পুলিশ। রাত সাড়ে সাতটা থেকে নয়টা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে এসব এসিড জব্দ করা হয়। নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) হারুনুর রশিদ হাজারী বলেন, মুফতি ইজহারের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে ৮ বোতল এসিড জাতীয় পদার্থ জব্দ করা হয়। পরে বাসার বিভিন্ন কক্ষ থেকে আরও ১০ বোতল এসিড জব্দ করা হয়। তবে মুফতি ইজহারের মাদরাসার  বোর্ডিং সুপার মনির হোসেন বলেন, বাসার নির্মাণ কাজ চলছে। তাই বাসায় এখন কেউ নেই।

Site Develop by : Shekh Mostafizur Rahman Faysal