মঙ্গলবার
১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং
১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
১২ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

গোপালগঞ্জের বশেমুরবিপ্রবি’র ৯০ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

প্রতিবেদক:  Shomoy News 24    প্রকাশের সময়: 10/07/2019  4:11 PM

এম শিমুল খান, সময় নিউজ ২৪ ডটনেট, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ৯০ জন শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় অর্ধকোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত ও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ওই সব শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে আশার আলো জাগিয়েছে এ উদ্যোগ। পারিবারিক আর্থিক টানা পোড়েনের কারণে এরা সু-চিকিৎসা পাননি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থীর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আবার কারো কারো জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়।
‘একটি ঘটনা ও একটি উদ্যোগ’ যা জীবনযুদ্ধে অদম্য ওইসব শিক্ষার্থীকে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন জাগায়। যার রুপকার হলেন জাতির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্ষ অধ্যাপক ডঃ খন্দকার নাসিরউদ্দিন। তিনি সন্তান স্নেহে রোগ, ব্যাধি ও জরাগ্রস্থ এসব অসহায় শিক্ষার্থীদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। সুস্থ্য ভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখান। গুণগত শিক্ষা দানের পাশাপাশি একটি মানবিক বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যের এ মহানুভবতা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বশেমুরবিপ্রবি সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সুবর্ণ মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে দূর্ঘটনার শিকার হন। এতে সুবর্ণার জীবন বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়। নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সুবর্ণার পক্ষে চিকিৎসার ব্যায় বহন করা অসাধ্য হয়ে পড়ে। এ সময় অসহায় সুবর্ণার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ডঃ খন্দকার নাসির উদ্দিন। গুরুতর অবস্থায় সুবর্ণাকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে ল্যাব এইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসার জন্য তিনি ১৭ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। দূর্ঘটনায় সুবর্ণার আহত হওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে ব্যাপক ভাবে নাড়া দেয়। ফলে তার চিকিৎসায় মানবিক হয়ে ওঠেন প্রশাসন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দূর্ঘটনা বা দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতার লক্ষ্যে ‘দুর্যোগ ও ছাত্র কল্যান ফান্ড’ গঠনের চিন্তা করেন। সে থেকেই শুরু হয় দুর্যোগ ও ছাত্র কল্যান ফান্ডের অভিযাত্রা।
অপরদিকে, গত ২০ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মরিয়ম সুলতানা মুন্নী পিত্তথলীর পাথর অপারেশনের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন ২১ মঙ্গলবার সকালে তার অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন হাসপাতালের ফিমেল ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ ও কুহেলিকা অপারেশনের জন্য চিকিৎসকের ফাইল নোট অনুসরন না করে ভুলবশতঃ মুন্নীর শরীরে অজ্ঞান করার ইনজেকশন পুশ করেন। ফলে সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে মুন্নীর জীবন।
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে মুন্নীকে গুরুতর অবস্থায় শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল খুলনায় রেফার করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্স করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন মুন্নীর আজও জ্ঞান ফেরেনি। লাইভ সাপোর্টে তিনি মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। এদিকে দরিদ্র বাবার পক্ষে মুন্নীর চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনি এক অবস্থায় মুন্নীর চিকিৎসার ভার নিলেন উপাচার্য অধ্যপক ডঃ খন্দকার নাসির উদ্দিন। তিনি ‘দুর্যোগ ও ছাত্র কল্যান ফান্ড’ থেকে মুন্নীর চিকিৎসায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করেন।
পায়ুপথের জটিল সমস্যা নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আরিফুল ইসলাম। এরআগে তার শরীরে আরো দু’বার অস্ত্রপাচার করা হয়। তাতেও সুস্থ্য হননি তিনি। বরং তার শরীরের অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। আরিফুলের বাবা ময়মনসিংহের ত্রিশালে কাঁচামালের ব্যবসা করেন। তার দরিদ্র পিতার পক্ষে বিদেশে তার ছেলের চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। বিভাগীয় শিক্ষকের পরামর্শে উপাচার্যের কাছে আবেদন করেন আরিফুল। বিশ্ববিদ্যালয প্রশাসন আরিফুলকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। ওই আর্থিক সহয়তা নিয়ে আরিফুল ভারতে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ্য আছেন।
এ ব্যপারে অরিফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আর্থিক সহায়তা না পেলে তার বেঁচে থাকাই কঠিন হতো। এ জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আশিকুজ্জামান ভুইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ খন্দকার নাসির উদ্দিনের বিশেষ উদ্যোগে ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে অসহায় শিক্ষার্থীদের সহয়তায় ‘দুর্যোগ ও ছাত্র কল্যান ফান্ড’ নামে একটি তহবিল চালু করে। শিক্ষার্থী ভর্তির টাকার একটি অংশ এ তহবিলে জমা হয়। গত দু’বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ জন শিক্ষার্থী দুর্যোগ ও ছাত্র কল্যান তহবিল থেকে চিকিৎসার জন্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা আর্থিক সহয়তা পান। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।
তিনি আরো বলেন, দেশের আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরণের কোন তহবিল চালু আছে কিনা তার জানা নেই।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, কেবল উচ্চ শিক্ষাই জীবনের সবকিছু নয়। শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে একজন ভাল মানুষ হতে হবে। গোপালগঞ্জে জাতির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে গুনগত শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী আগামীতে সুনাগরিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাশার একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস।

Site Develop by : Shekh Mostafizur Rahman Faysal