রবিবার
২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং
৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
১৮ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

কালিগঞ্জে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ

প্রতিবেদক:  Shomoy News 24    প্রকাশের সময়: 08/07/2019  10:19 PM

অসিত সেন, সময় নিউজ ২৪ ডটনেট, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা): কালিগঞ্জে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় বর ও তার সাথের লোকজন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে। আর বাংলাদেশের প্রথম বাল্যবিয়ে মুক্ত উপজেলায় এই বাল্যবিয়ের দিন (৮ জুলাই) মিথ্যা জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদান করে এবং নিজে বিয়ের আসরে উপস্থিত থেকে বাল্যবিয়ে দিতে সহায়তা করছিলেন মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন।
সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের জিয়াউল হকের মেয়ে কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তাসমিম সুলতানার সঙ্গে খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানার হাতিয়াবাদ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ইলিয়াছ হোসেনের (৩২) বিয়ের প্রক্রিয়া চলছিল। সোমবার বেলা ২টার সময় বর পক্ষের লোকজন বাসযোগে মেয়ের বাবার বাড়িতে পৌছানোর পর এলাকাবাসী বাল্যবিয়ের বিষয়টি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন আক্তারকে অবহিত করে। এরপর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিসের সুপারভাইজার জয়দেব সরকারের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার সাথে সাথে বর পক্ষের লোকজন দ্রুত বাসে উঠে পালিয়ে যায়। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হলেও মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন ৮/৭/২০১৯ তারিখে ভুয়া জন্ম সনদপত্র দেন এবং তার উপস্থিতিতে বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন। সুপারভাইজার জয়দেব সরকার বাল্যবিয়ের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে স্কুলছাত্রীর মা বাবা’র নিকট হতে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাদের রেহাই দেন। এদিকে বাল্যবিয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কোন আইনগত পদক্ষেপ না নেয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এবিষয়ে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও বন্ধ থাকায় কথা বলা যায়নি। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিফাত উদ্দীনকে জানানো হয়েছে।
ভারপাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিফাত উদ্দীন জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Site Develop by : Shekh Mostafizur Rahman Faysal