বৃহস্পতিবার
১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং
২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
১৮ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

কালিগঞ্জের নলতা কলেজে অধ্যক্ষ পদে পাতানো নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি!

প্রতিবেদক:  Shomoy News 24    প্রকাশের সময়: 10/07/2019  6:37 PM

ন্যাশনাল ডেস্ক, সময় নিউজ ২৪ ডটনেট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজে অধ্যক্ষ পদে পাতানো নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সকলকে জিম্মি করে কলেজের বর্তমান উপাধ্যক্ষ (দীর্ঘদিনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) তোফায়েল আহম্মেদ কলেজকে পৈত্রিক সম্পত্তিতে পরিণত করে এবার নিজে সাজানো নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে নিয়মিত অধ্যক্ষ হওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করায় এলাকার অভিভাবক ও সূধী সমাজের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও কলেজ পরিদর্শক, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রদানের জন্য দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজে গত ২৯/০৯/২০০২ তারিখে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন স্থানীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির কথিত ভাগ্নে পরিচয় দানকারী তোফায়েল আহম্মেদ। কলেজটি ডিগ্রী পর্যায়ে উন্নীত হওয়ায় কলেজের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন গত ১৪/১০/২০১৪ তারিখে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু তোফায়েল আহম্মেদ উপাধ্যক্ষ হওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পরপরই আলতাফ হোসেনকে সরিয়ে দিয়ে ২৭/১২/১৪ তারিখে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিধি বহির্ভূতভাবে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থাকাকালে মোট ৪ বার উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও নিয়োগ প্রদান করেন নি। সরকারি ও জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ে বিধি লঙ্ঘন করে একটানা ১৬ মাস ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তোফায়েল আহম্মেদ। এক পর্যায়ে বিধি অনুযায়ী উপাধ্যক্ষ হওয়ার জন্য তার ১২ বছরের অভিজ্ঞতা পূর্ণ হলে তিনি আবারও বিজ্ঞাপন দেন এবং নিয়োগ বোর্ড গঠন করেন। তোফায়েল আহম্মেদই উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন এমন প্রচারণা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে গত ০৮/০৫/১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় ২৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে তার প্রক্সির ৪ প্রার্থী ছাড়া অন্যান্যরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন নি। সাজানো বোর্ডে পরীক্ষার মাধ্যমে তোয়ায়েল আহম্মেদ উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। একই দিনে অর্থাৎ ০৮/০৫/১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ১২ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করলেও অজ্ঞাত কারণে অধ্যক্ষ পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। তোফায়েল আহম্মেদ ও তার বাল্যবন্ধু ওই কলেজের অফিস সহকারী দীপক কুমার পালের যৌথ পরিকল্পনায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ সুকৌশলে বন্ধ রেখে আবারও ০১/০৭/২০১৬ তারিখ থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহম্মেদ। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কলেজের বিভিন্ন খাত থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে তিনি সকলের মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেন। তিনি অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু না করে নানা কৌশলে একটানা ৩ বছর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা পূর্ণ করে এবার তিনি অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য গত ২৭/০৫/২০১৯ তারিখে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। এবারও সুকৌশলে নীরবে নিভৃতে পছন্দের কয়েকজনকে দিয়ে ইতোমধ্যে প্রক্সি দেয়ার জন্য আবেদন করিয়ে নিয়েছেন। মঞ্চ সম্পূর্ণ প্রস্তুত, আগামী শনিবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা। শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র, তোফায়েল আহম্মেদই হবেন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম এবং তিনিই হচ্ছেন নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ এমনটা এখন নিশ্চিত হয়েছে এলাকাবাসী। সরকারি নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রখ্যাত সূফী সাধক, শিক্ষাবিদ, পীর এ কামেল আলহাজ্জ্ব খানবাহাদুর আহছাানউল্লার (র.) পবিত্র জন্মভূমি নলতায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কলেজটিকে জিম্মি করে তোফায়েল আহম্মেদ নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য কুট কৌশলের আশ্রয় নেয়ার ঘটনায় সর্বমহলে ব্যাপক সমালোচনার চলছে। অতি দ্রুত পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় একজন সৎ ও যোগ্য অধ্যক্ষ নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিচালনা পর্ষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকার অভিভাবক ও সূধী মহল। এছাড়াও লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে দুদক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, আমি ইচ্ছা করে নিয়োগ বন্ধ রাখিনি। বিভিন্ন কৌশলগত কারণে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। আগামী ১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যান্য অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দিতে অস্বীকার করেন।

Site Develop by : Shekh Mostafizur Rahman Faysal